» কেরানীগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মোট ১১ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত: ১৩. ডিসেম্বর. ২০১৯ | শুক্রবার

কেরানীগঞ্জ উপজেলার চুনকুটিয়া এলাকায় অবস্থিত ‘প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’র কারখানার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফয়সাল (২৫) নামে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত ১১ শ্রমিকের মৃত্যু হলো।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) ভোর থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন সময় তাদের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন- জাহাঙ্গীর, ইমরান, বাবুল, রায়হান, খালেক, সালাউদ্দিন, সুজন, জিনারুল ইসলাম, আলম, জাকির হোসেন ও ফয়সাল।

ঢামেক বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন (আরএস) ডা. আরিফুল ইসলাম নবীন বাংলানিউজকে জানান, বুধবার (১১ ডিসেম্বর) রাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত অগ্নিদগ্ধদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। অগ্নিদগ্ধদের মধ্যে অধিকাংশেরই ৯০ শতাংশ বার্ন রয়েছে।

এর আগে বুধবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকার ‘প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’র কারখানায় আগুন লাগে। ঘটনার সময় শ্রমিকরা কাজ করছিলেন। তখন হঠাৎই গ্যাস রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

ইঞ্জিনিয়ার এসে শ্রমিকদের আগুন লাগার খবর দেয়। এরপর শ্রমিকরা পানি ও কারখানায় থাকা অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলে তখনই তারা দগ্ধ হয়।

এ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১০ হাজার স্কয়ার ফিট কারখানাটির ভেতরের সব মালামাল ও যন্ত্রাংশ পুড়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডের ধ্বংসস্তুপের ভেতর থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জাকির হোসেন (২২) নামে একজনের মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় প্রায় ৩৫ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরে আহতদের মধ্য থেকে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে নয় জনের মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, কেরানীগঞ্জের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঢামেক বার্ন ইউনিটে বুধবার রাত ১২টার পর থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত আরও নয় জনের মৃত্যু হয়েছে।

‘প্রাইম পেট অ্যান্ড প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’র কারখানার গত দুই বছরে তিনবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার দুটোই ঘটেছে চলতি বছরে। প্রতিটি অগ্নিকাণ্ড ছিল ভয়াবহ।

২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর কারখানাটিতে প্রথম অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এরপর চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল দ্বিতীয়বারের মতো আগুন লাগে। তবে ওই দু’টি অগ্নিকাণ্ডে কারখানার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

সর্বশেষ বুধবার তৃতীয়বারের মতো আগুন লাগে কারখানাটিতে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৪৩ বার

Share Button