» এসএ গেমসে পদকজয়ী যশোরের দুই খেলয়াড়ের খোজ নেয়নি কেউ

প্রকাশিত: ২৩. ডিসেম্বর. ২০১৯ | সোমবার

এসএ গেমসে যশোরের দুই খেলোয়াড় পদক জিতলেও খবর রাখে না জেলার ক্রীড়া সংগঠকরা। অথচ এসএ গেমসে পদক জয়ী অন্য জেলার খেলোয়াড়রা নানাভাবে সংবর্ধিত হচ্ছেন। সেখানে সংবর্ধনাও মেলেনি জেলার পদক জয়ী দুই খেলোয়াড়ের। গেমস চলাকালীন সময় প্রধানমন্ত্রী পদক জয়ীদের সংবর্ধনার ঘোষণা করেছিলেন। অথচ জেলার কি কোন দায়বদ্ধতা নেই; এ প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে জেলার ক্রীড়া প্রেমীদের মনে।

জানা যায়, নেপালের কাঠমান্ডুর আর্মি স্টেডিয়ামে চলতি বছরের ৩ ডিসেম্বর যশোরের মেয়ে অনিতা ইসলাম তানিয়া বক্সিংয়ে ৫৪ কেজিতে ব্রোঞ্জ পদক জয় করেন। এ ইভেন্টে নেপালের প্রতিযোগী স্বর্ণ ও ভারত রৌপ্য পদক জয় করেন। যশোরের আর এক মেয়ে রিতা বিশ্বাস পূর্জা ৪ ডিসেম্বর কাঠমান্ডুর আর্মি স্টেডিয়ামে উশু সান্দা ৬০ কেজিতে ব্রোঞ্জ পদক জয় করেন। এ ইভেন্টে স্বাগতিক নেপাল স্বর্ণ ও বাংলাদেশের আরেক প্রতিযোগী কক্সবাজারের মেয়ে মর্জিনা আক্তার রৌপ্য পদক জয় করেন।
যশোর সদরের পাগলাদহ কলোনীর বাসিন্দা পারভীন। তার একমাত্র মেয়ে অনিতা ইসলাম তানিয়া। ছোট বেলা থেকেই বক্সিংয়ের প্রশিক্ষক ও ক্রীড়া সংগঠক রবিউল ইসলামের হাত ধরেই বক্সিং প্রশিক্ষণ শুরু। বাবা নেই, নেই কোন ভাই বোন। মায়ের প্রচন্ড উৎসাহে আজ এ ফলাফল। তবে এ সাফল্যের পেছনে আরো একজনের অবদান রয়েছে বলে জানান তানিয়া। তিনি হচ্ছেন তার আর এক প্রশিক্ষক ফজলুর রহমান।
যশোর সদরের বলাডাঙ্গার কাজীপুরের মেয়ে রিতা বিশ্বাস পূর্জা। জেলার ক্রীড়াঙ্গনের খোঁজ খবর যারা রাখেন তারা তাকে চেনেন একজন বক্সার হিসেবেই। তার এ সাফল্যের পেছনের গল্প ও তানিয়ার গল্প একই। বাবা সুকুমার বিশ্বাস কাঠমিস্ত্রি আর মা রেপতি রানী বিশ্বাস গৃহিনী। ৪ বোনের মধ্যে পূজার অবস্থান তৃতীয়।
জেলার এই দুই ব্রোঞ্জ পদক জয়ী খেলোয়াড় নিজ জেলায় ফিরেছেন প্রায় ১৫দিনের বেশি। জেলার ক্রীড়াঙ্গনের দেখভালো করার জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি সংগঠন। তবে মাদার সংগঠন হচ্ছে জেলা ক্রীড়া সংস্থা, এরপরই রয়েছে জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থা ও সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা। এ সব সংগঠনের কি নেই কোন জবাবদিহিতা। এস এ গেমসে পদক জয়ী জেলার এ দুই কৃতি খেলোয়াড়কে নিয়ে কি কারও ভাবার সময় নেই-এমন প্রশ্ন ঘুরছে ক্রীড়াপ্রেমীদের মাঝে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৭৩ বার

Share Button